হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইসফাহানে সেনাবাহিনীর শহীদদের স্মরণে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া তিনটি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। তাঁর ভাষায়, কোনো যুদ্ধই ইরান শুরু করেনি; বরং যুদ্ধগুলো ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আলোচনার সময়ও যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে—তাই যুদ্ধ ও শান্তিকে পরস্পরবিরোধী দুটি বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
জেনারেল ফুলাদি বলেন, ইরান তিনটি যুদ্ধ, বহু দফা আলোচনা এবং শত শত ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি বারবার হামলার শিকার হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তিনটি যুদ্ধেই শত্রুরা কয়েক দিনের মধ্যে ইরানকে পরাজিত করার পরিকল্পনা করেছিল; কিন্তু ইরানি জনগণের প্রতিরোধ তাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাধা দেয়।
প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ছাড়া আলোচনা যথেষ্ট নয়
জেনারেল ফুলাদি বলেন, শত্রুরা ইরানকে দুর্বল মনে করেছিল বলেই হামলা চালিয়েছে। তাই দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করা জরুরি। তাঁর মতে, “শুধু আলোচনা, বৈঠক ও সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করলেই ফল আসবে না। শত্রু বিশ্বাসযোগ্য নয়।”
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধে শত্রুর ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল সরকার পরিবর্তন, ইরানের নেতৃত্ব নির্ধারণে হস্তক্ষেপ, দেশকে বিভক্ত করা, হরমুজ প্রণালি ও তেল-গ্যাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা। তাঁর দাবি, এসবের কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের অভিজ্ঞতা
জেনারেল ফুলাদি বলেন, ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের পূর্ব অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ১৯৮৮ সালের ১৮ এপ্রিল পারস্য উপসাগরে ইরানের নৌবাহিনী মার্কিন নৌবহরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, ইরান “পবিত্র প্রতিরক্ষা” হিসেবে নিজেদের প্রতিরোধ চালিয়েছে এবং তাঁর দাবি অনুযায়ী যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের নীতিগুলো লঙ্ঘন করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরাক্রমের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন
জেনারেল ফুলাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল সামরিক শক্তি এবং তার বিপুলসংখ্যক বিমান ও বিমানবাহী রণতরী রয়েছে। কিন্তু তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
তিনি বলেন, এসব ঘটনা দেখিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের অজেয়তার যে ভাবমূর্তি তৈরি করা হয়েছিল, তা যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর মতে, পরাশক্তি হওয়া শুধু প্রতিরক্ষা বাজেট, বিমান বা বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না; বরং শত্রুর লক্ষ্য প্রতিহত করার সক্ষমতার ওপরও নির্ভর করে।
হরমুজ প্রণালি প্রতিরোধের হাতিয়ার
জেনারেল ফুলাদি বলেন, শত্রুর ঘোষিত লক্ষ্য এখন পরিবর্তিত হয়েছে। আগে তারা সরকার পরিবর্তনসহ বিভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে কথা বললেও এখন তাদের প্রধান দাবি হলো হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, যাতে জাহাজে তেল পরিবহন করা যায়।
তিনি দাবি করেন, যুদ্ধের ব্যয় শত্রুদের ওপরই ফিরে এসেছে এবং হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার প্রতীক ও ইরানের প্রতিরোধমূলক সক্ষমতার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিকভাবে, সামরিকভাবে এবং তার মিত্রদের মধ্যেও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়েছে এবং আরব দেশগুলোর মধ্যে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা ছাতার বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রভাবিত হয়েছে।
শেষে জেনারেল ফুলাদি বলেন, “আমরা এই যুদ্ধে সফল হয়েছি, সফল আছি এবং সফল থাকব। জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।”
আপনার কমেন্ট